Thursday, December 15, 2016

‘আল বদর বাহিনীর সদস্য ইসলামী ব্যাংকের এমডি আব্দুল মান্নান’

Tags

“জাতির দুর্ভাগ্য যে মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বেশি সময় যাওয় সত্ত্বেও জড়িত আলবদর বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি”

সাপ্তাহিক অপরাধচিত্র:
মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীকে। তিনি ছিলেন একাত্তরের কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাদের একজন। সে সময় বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মীর কাসেম হত্যা, নির্যাতনসহ এক ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন। সেখানকার  হোটেল ডালিম ছিলো তার টর্চার কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের ওই হোটেলে ধরে নিয়ে গিয়ে কাশেস ও তার সহযোগিরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করতো।
যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর রায় কার্যকরের প্রাক্কালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা-ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী প্রশ্ন তুলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় কুখ্যাত ঘাতক বাহিনী আল বদরের ৩১৩ জন সদস্য ছিলো তাদের মধ্যে পাচঁ-ছয়জনের বিচার হয়েছে। বাকিরা কোথায়? পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে জামাতে ইসলামী এদেশে শুধুমাত্র মানবতা বিরোধী অপরাধই করেনি, পবিত্র ইসলামকেও অবমাননা করেছে। প্রিয় নবী (সাঃ) এর বদর যুদ্ধের পবিত্র স্মৃতি এবং ৩১৩ জন ত্যাগী সাহাবাকেও হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এমনকি কারা বদর যুদ্ধে আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষে অংশ নেওয়া  ৩১৩ জন যোদ্ধার অনুকরনে ঘাতক বদর বাহিনী গঠন করে হয়রত মোহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর সহযোগীদের অসম্মান করেছে। তাই বদর বাহিনীর হোতা ও সদস্যদের শুধু যুদ্ধাপরাদের অভিযোগেই নয়, পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার দায়েও বিচার করা উচিত।
শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, কুখ্যাত বদর বাহিনীর সদস্যরা ইসলামী ব্যাংকসহ জামাতে ইসলামী ভাবধারায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী মোহাম্মদ মান্নানের আলবদর বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিলো।
জানা গেছে, তিনি ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত। কার আগে তিনি জামায়াতে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সক্রিয় নেতা ছিলেন। পাশাপাশি আবার জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামে সাংবাদিকতাও করতেন। আগাগোড়া তিনি জামায়াতের নিবেদিত কর্মী ছিলেন এবং সেই মোতাবেক ইসলামী ব্যাংকে তার চাকুরি হয়।
পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে জামাতীকরণের ক্ষেত্রে মীর কাশেম আলীর একজন সহযোগী হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জামায়াতীকরণ এতটাই প্রবল ছিল যে ব্যাংকে একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ঋণ প্রদান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই জামায়াতের নেতাদের সুপারিশ লাগতো। জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক এবং রাজনৈতিভাবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের ফান্ড থেকে অর্থের ব্যবস্থা করা হতো অবলীলায়। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবদুল মান্নানের বাড়ি নারায়ণগঞ্চের আড়াইহাজারে। ব্যাংকের ওয়েব সাইটে প্রদর্শিত প্রোফাইলে তার জন্ম দেখানো হয়েছে, ১৯৫২ সাল। সেই মোতবেক মুক্তিযুদ্ধের সময় মান্নানের বয়স ছিল ১৯-২০। তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্রকৃত পক্ষে মান্নানের বয়স আরো বেশি। সে সময় তিনি জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আর এই ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মীদের নিয়েই কুখ্যাত আলবদর বাহিনী গঠন করেছিল।

একাধিক সূত্র মতে, মান্নানের অনেক রাজনৈতিক সহকর্মী সে সময় আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। আর তখনকার আল বদর মানেই হলো শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া। তৎকারীন ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মী হিসেবে মান্নান যদি আল বদর বাহিনীতে যোগ দেন, তাহলে তাকে যুদ্ধপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাই দোষনীয় কিছু হবে না। একাধিক সূত্র জানায়, আবদুল মান্নানের সঙ্গে আলবদর বাহিনীর ঘনিষ্ঠতা বরাবরই ছিল। তাদের রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে সব সময় নানা ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেণ। এর একটা প্রমান হলো আমি আলবদর বলছি বইটি। কিশোরগঞ্জের কুখ্যাত আলবদর কে এম ইমনুল হক এ গ্রন্থের প্রনেতা। আশির দশকের শেষদিকে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বইটি হলে জাতি দ্রোহিতার এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কটাক্ষ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের গুণগান করেতে ভুল করেনি লেখক। অবাক হওয়ার ব্যাপার যে ওই বইটি প্রকাশের জন্য আল বদর আমিনুল হককে যারা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। লেখক, অর্থাৎ আল বদর কে.এম. আমিনুল হক তার বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন, দৈনিক সংগ্রামের সাবেক চিফ রিপোর্টার বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত মান্নান ভাই জেলখানায় থাকতেই তাকে কিছু লেখার ব্যাপার শক্তি যুগিয়েছে। বলা বাহুল্য, মুক্তিযুদ্ধের পর আলবদর আমিনুল জেলখানায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তি পান।
একজন আলবদরের ওই স্বীকারোক্তিই বলে দেয়, মান্নানের সঙ্গে আলবদরের ঘনিষ্ঠতা কতটা ছিল। কারো কারো মতে এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই সন্দেহ জাগে, মান্নানের পক্ষে কুখ্যাত বদর বাহিনীর সদস্য হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যে মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বেশি সময় যাওয় সত্ত্বেও জড়িত আলবদর বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ওই তালিকা প্রকাশিত হলে তাতে মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নাম থাকাটা অসম্ভব কিছু নয় বলে অনেকেই মনে করেন।

Source 
http://www.banksnews.net/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%A6%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2/


EmoticonEmoticon